তিনি বলেন, গোমতী চরের মাটি কেটে নদীর গতিপথ নষ্ট করা হচ্ছে। এতে বাঁধ ও রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতি বছর বন্যায় ফসল, বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট ধ্বংস হচ্ছে। এসব ক্ষতি মেরামতে সরকারকে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। সামান্য কয়েকজন মানুষের স্বার্থের কারণে জনগণের পাশাপাশি সরকারও দুর্ভোগে পড়ছে।
মঙ্গলবার উপজেলার মোহাম্মদপুর ইসলামী সমাজকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি (টপসয়েল) কাটার ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, দুই একর জায়গা থেকে টপসয়েল কাটলে তার প্রভাব আশপাশের ১০-১৫ একর জমির টপসয়েলের ওপর পড়ে। সাময়িক লাভের জন্য আমরা দীর্ঘমেয়াদে কৃষির বড় ক্ষতি ডেকে আনছি।
এলাকায় পরিচালিত ২২টি ইটভাটার অধিকাংশেরই লাইসেন্স নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা সরকারকে ট্যাক্স দিয়ে, পরিবেশের ক্ষতি না করে শর্ত অনুযায়ী ব্যবসা করছেন, তাদের ছাড়া বাকিদের ছাড় দেওয়া হবে না।
পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কারণে আবহাওয়ার অস্বাভাবিক পরিবর্তন কৃষিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ সময় তিনি নদী-খাল পুনঃখনন ও নাব্য ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে কৃষিকে টিকিয়ে রাখার ওপর জোর দেন।
তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে জনগণের কাছেই আমার জবাবদিহিতা; কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠী, দল বা ব্যবসায়ীদের কাছে আমি দায়বদ্ধ নই।
দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে সামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে আসায় মোহাম্মদপুর ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদের প্রশংসা করে এমপি হাসনাত বলেন, প্রতিটি গ্রাম ও ইউনিয়নে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। তরুণদের ইতিবাচক কাজে যুক্ত করতে পারলে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় অনেকটাই কমে আসবে।
মোহাম্মদপুর ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি সোলাইমান কবির মাসুমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম শহীদ, দেবিদ্বার উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম এবং মাওলানা শহীদুল্লাহ ভূঁইয়া। অনুষ্ঠান শেষে এলাকার প্রায় পাঁচ শতাধিক অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
-%E0%A6%AC%E0%A6%AC%E0%A6%AC%E0%A6%AC%E0%A6%AC%E0%A6%AC%E0%A6%AC%E0%A6%AC%E0%A6%AC%E0%A6%AC%E0%A6%AC%E0%A6%AC%E0%A6%AC%E0%A6%AC%E0%A6%AC%E0%A6%AC%E0%A6%AC%E0%A6%AC-69a28d3bc30a7.jpg)
মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা হানজালা।
ঐতিহাসিক ফরায়েজী আন্দোলনের অগ্রদূত হাজী শরীয়তউল্লাহর উত্তরসূরী পীরজাদা হানজালা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর মাদারীপুরের শিবচরে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।
সাধারণ মানুষের কাছে তিনি এখন কেবল একজন জনপ্রতিনিধি নন, বরং ন্যায় ও ইনসাফের জীবন্ত প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
এলাকাবাসীর মতে, পীরজাদা হানজালার প্রতিটি পদক্ষেপে প্রতিফলিত হচ্ছে তার মহান পূর্বপুরুষ হাজী শরীয়তউল্লাহর আদর্শ। শত শত বছর আগে যেভাবে হাজী শরীয়তউল্লাহ শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে লড়াই করেছিলেন, আজ ঠিক সেভাবেই শিবচরের মাটিতে ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় ব্রতী হয়েছেন তার এই বংশধর। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই পীরজাদা হানজালা মাদক, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন। নিজের জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে তিনি সরাসরি মাঠে নেমে পড়েছেন এসব সামাজিক ব্যাধি নির্মূলে। তার কঠোর অবস্থানের কারণে শিবচরের সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিশেষ করে দুর্নীতির আখড়াগুলোতে তিনি যে অভিযান শুরু করেছেন, তা সর্বস্তরের মানুষের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
শিবচরের প্রবীণ নাগরিকরা বলছেন, রক্ত কথা বলে। হানজালার ধমনীতে বইছে হাজী শরীয়তউল্লাহর রক্ত। তাই অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করা তার স্বভাবে নেই। তিনি যেভাবে চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন, তাতে আমরা হারানো সেই ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন দেখছি।