শ্রীলঙ্কার উপকূল এলাকায় গভীর নিম্নচাপটি দীর্ঘদিন ধরেই অবস্থান করছিল। যার ফলে ব্যাপক বৃষ্টি চলছে ভারতের এই পড়শি দেশে। সেই নিম্নচাপটি শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড় দিতওয়াতে পরিণত হয়েছে। এই মুহূর্তে ঘূর্ণিঝড়টি অবস্থান করছে শ্রীলঙ্কার উপকূল এলাকাতেই। সেটি দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর হয়ে এগিয়ে আসতে পারে তামিলনাড়ু ও পুদুচেরী উপকূলের দিকে। সেখানেও জারি হয়েছে সতর্কতা। ইতিমধ্যেই তামিলনাড়ুর উপকূল এলাকায় ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে, বইছে ঝোড়ো হাওয়া। কিন্তু এর প্রভাবে লণ্ডভণ্ড শ্রীলঙ্কা। ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আগেই শ্রীলঙ্কার উপকূল এলাকাতেই শক্তি বাড়িয়েছিল নিম্নচাপটি। ফলে টানা অতি ভারী বৃষ্টি চলছে শ্রীলঙ্কাতে।
সেই কারণে ধস নেমেছে বহু পাহাড়ি এলাকায়। বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে নদীগুলি। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভেঙে গিয়েছে ৬০০-এর বেশি বাড়ি। মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ৫৬ জনের। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানাচ্ছে প্রশাসন। পরিস্থিতির কথা মাথাতে রেখে আজ, শুক্রবার শ্রীলঙ্কায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে স্কুল-কলেজ ও সমস্ত সরকারি দপ্তরে। এই দুর্যোগের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দ্বীপরাষ্ট্রটির পাহাড়ি এলাকায়। বিশেষ করে চা-বাগানের জন্য জনপ্রিয় বাদুল্লা ও নুওয়ারা এলিয়া এলাকা। রাজধানী কলম্বো থেকে মাত্র ৩০০ কিমি পূর্বেই রয়েছে এই পাহাড়ি অঞ্চলগুলি। এখানেই সবচেয়ে বেশি ভূমিধস হয়েছে। এখনও নিখোঁজ বহু মানুষ।
উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। নামানো হয়েছে বায়ুসেনার কপ্টারও। গত এক সপ্তাব ধরে নিম্নচাপের প্রভাবে ভারী বৃষ্টি চলছে শ্রীলঙ্কায়। গতকাল, বৃহস্পতিবার থেকে যা অতি প্রবল আকার ধারণ করেছে। একাধিক রাস্তা জলমগ্ন, ট্রেনের লাইনে জল। বাতিল করা হয়েছে একাধিক ট্রেন। উড়ান পরিষেবা ব্যাহত। নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় দিতওয়াতে পরিণত হয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তামিলনাড়ুর উপকূলের দিকে। তাই বাড়তি সতর্কতা নিচ্ছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন।
