লাইফস্টাইল

নীল শালুকের নির্যাসেই সারতে পারে রক্তের ক্যান্সার, গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

মিশরীয়দের মতে, এটি পুনর্জন্মের প্রতীক। আবার অনেকে বলেন, নীল পদ্ম বা নীল শালুক হল পুনরুজ্জীবনের প্রতীক। পুরাণ বা ইতিহাসে যাই বলা হোক না কেন, নীল পদ্মে যে অনেক রহস্য লুকিয়ে আছে, তা এবার জানা গেল বৈজ্ঞানিক গবেষণায়। কলকাতার বিজ্ঞানীদের গবেষণায় তিনটি উল্লেখযোগ্য গুণাবলি ধরা পড়ল নীল পদ্মের। সেগুলি হল, এক, ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসের প্রবণতা, দুই, রক্তের ক্যান্সারের চিকিৎসায় কার্যকর ভূমিকা এবং তিন, মার্স বা মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি ভাইরাস সিনড্রোমের মতো প্রাণঘাতী অসুখ দমনে সহায়তা।
বিশিষ্ট চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডাঃ শতদল দাসের নেতৃত্বে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে পরপর এই তিনটি গবেষণা হয়েছে। তিনটি উল্লেখযোগ্য জার্নালেও প্রকাশিত হয়েছে সেগুলি। বিজ্ঞানী মহল সূত্রে জানা গিয়েছে, নীল শালুক নিয়ে প্রথম গবেষণাটি হয়েছিল ইকোলাই ব্যাকটেরিয়ার উপর। এক্ষেত্রে মুরগির ভ্রূণে ইকোলাই ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করানো হলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। এমন সময় নীল শালুকের পাপড়ি এবং বিভিন্ন অংশের নির্যাস প্রয়োগ করা হয় সেই সংক্রামিত ভ্রূণে। শতদলবাবু  জানিয়েছেন, আমরা চমকপ্রদ ফল পেয়েছি। ডাবল ব্লাইন্ড ট্রায়াল মডেলে একদিকে মুরগির ভ্রূণে ইকোলাই প্রবেশ করানোর পর শালুকের নির্যাস দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে দেওয়া হয়েছিল। আমরা দেখেছি, যে দিকে দেওয়া হয়েছে, সেখানে সংক্রমণের গতি রুদ্ধ হয়েছে। আর বাড়তে পারেনি। ভ্রূণটিও বেঁচে গিয়েছে। অন্যদিকে, শালুক ফুলের নির্যাস না হয়নি যে ভ্রূণে, সেটি মারা গিয়েছে।
প্রাণঘাতী অসুখ অ্যাকিউট মায়লয়েড লিউকোমিয়ার (এএমএল) কোষে শালুক ফুলের নির্যাস প্রয়োগ করে হয়েছিল দ্বিতীয় গবেষণাটিতে। তাতে গবেষকরা দেখেছেন, এএমএল কোষে ওই নির্যাস যাওয়ার পর কোষগুলির মৃত্যু হচ্ছে। গবেষকদের মতে, শালুকের তিনটি গুণের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ফলাফল পাওয়া গিয়েছে ক্যান্সার কোষ ধ্বংসকারী হিসেবে। মার্সের মতো ভয়াবহ রোগেও বিজ্ঞানীরা শালুক ফুলের নির্যাসের সাফল্য দেখেছেন।
গবেষণাগুলি প্রকাশিত হয়েছে যথাক্রমে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব অ্যাপ্লায়েড বায়োলজিতে। এশিয়ান প্যাসিফিক জে ক্যান্সার এবং জার্নাল অব বায়োলজিক্যাল অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সেস-এ। শতদলবাবু ছাড়াও গবেষণাগুলির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন শহরের একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহকারী অধ্যাপক ডঃ দেবস্মিতা চট্টোপাধ্যায়, রিসার্চ কো-অর্ডিনেটর ডঃ কৃষ্ণেন্দু পয়ড়া প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *